পঞ্চাশটি হাইকু - আদিত্য আনাম



হাইকু : জাপানী কবিতা




১।

পৃথিবী হল
একটি কারাগার
কয়েদী সবাই।

২।

মদ নেই তবু
এতো কেন শীতল
আমার পাশে।

৩।

তোমার চোখে
লুকাবো এই আমি
কাজল শোকে।

৪।

শীতার্ত রাত
কুয়াশা মলিন হয়
নির্জন হাত।

৫।

দ্রাবিড় স্মৃতি
বুকে নিয়ে সৈকতে
শূন্য মিনতি।

৬।

প্রভাতী স্বপ্ন
কেবল ছায়া নয়
অভাবী মায়া।

৭।

গোলক ধাঁধা
বিষুবীয় অসুখে
পৃথিবী বাঁধা।

৮।

মানুষ একা
কেননা ঈশ্বরত্ব
মগজে খাঁ খা

১০।

চৌচালা ঘরে
বাতাস কিছুটা আর
হতাশা নড়ে।

১১।

চলন্ত ট্রেনে
যাত্রীরা চক্রান্তিক
সময়ের ফ্রেমে।

১২।

গভীর জলে
প্রসবাক্রান্ত হায়!
ঝিনুক একা।

১৩।

অন্ধ লোকের
পকেটঘড়ি নেই
বন্ধ ঝোকের।

১৪।

মেয়েটি একা
তবু তার বয়স
লোকারণ্যে হৈ।


১৫।

বারুদঘরে
বয়েসি বন্দুকের
লালসা বাড়ে।

১৬।

চায়ের চাপ
কতোগুলো ওষ্ঠছোয়ায়
পায় সে  মাপ?

১৭।

প্রজাপতিরা
মূর্ছা খেয়ে ফিরছে
আফিম ঘ্রাত।

১৮।

পথিকবর
পেয়োনা ভয় কোনো
আসলে ঝড়।

১৯।


নদীরা যায়
অযথা সমূদ্রে ঐ
হুযুগে পরে।

২০।

গোলাপজল
অথচ গোলাপে নয়
শবদেহে ঝরে।

২১।

বাঁশবাগান
কারো কারো পশ্চাতে
নিরবচ্ছিন্ন।

২২।

কাক ও চিল
কোথাও না কোথাও
খানিক মিল।

২৩।

নির্যাস রসে
এখন থুথু আর
বিষেরা হাসে।

২৪।

শীতার্ত পাখি
বিষন্ন কুয়াশায়
তবু আন্তরিক।

২৫।

মধ্যরাতের
রেল লাইন সজাগ
অর্ধচাঁদ থ।

২৬।

গোলাপ গাছে
মাছির পায়চারি
সুবিধের নয়।

২৭।

পাখি মরলে
থাকেনা কোনো স্মৃতি
বৃক্ষের ডালে।

২৮।

আকাশপথে
কোনো বাইপাস নেই
তবু নির্জন।

২৯।

পিপীলিকার
কোনো একাউন্ট নেই
 আছে বিষদাঁত ।

৩০।

নদীসমৃদ্ধ
মাছেরাও একদিন
নিতান্ত বৃদ্ধ।

৩১।

আমেরিকার
নিতম্বে পারফিউম
বগলে বিষ।

৩২।

মাছেরঝোল
না রেঁধেই বিড়াল
কাটার ভাগী।

৩৩।

পাখির ওষ্ঠে
ফুলের রেণু থাকা
আসন্ন ভুল।

৩৪।

ফুল বাগানে
পোকা ও প্রজাপতি
দুটোই আসে।

৩৫।

আউলা ঝড়ে
কাঁপছে বাবার ঐ
নকল দাঁত।

৩৬।

কাকের ডাকে
শহর জাগে ভোরে
মানুষ হাঁকে।

৩৭।

তন্দ্রা বিলাশ
বালিশের জীবন
ক'জন মিলাস?

৩৮।

রসের হাড়ি
কুয়াশা মাখা ভোর
খেঁজুর গাছে।

৩৯।

অপ্রকাশিত
করুণ চিঠি ঝরে
না লেখা দুঃখে।

৪০।

বয়সী ঘড়ি
ড্রয়ারে বসে কাঁদে
স্থবির দুঃখে।

৪১।

নির্জন হাত
ঝুলে থাকে শরীরে
অথচ মৃত।

৪২।

ফুটপাতের
কোনো অভিযোগ নেই
অথচ ফেরারি।

৪৩।

গোধূলি বেলা
কিশোরী ফিরছে ঘরে
ঘাসগুলো লজ্জিত।

৪৪।

নগ্ন শরীর
নদীতে ভাসছে
বস্ত্র উধাও।

৪৫।

জোনাকিপোকা
তোমার বড়াই রাত্রে
দিনে আমার।

৪৬।

গাছেকাঁঠাল
সেলুনে পড়ে আছে  গোফ
তেলমুখ সরা।

৪৭।

শীতকালে
কোনো কোনো ঘরে থাকে
ফেরারি বিছানা।

৪৮।

ভাবুক বৃক্ষে
উদাসী পাখির সুর
পাতারা কাতর।

৪৯।

খেয়ালী নদী
স্রোতের প্রলোভনে
মাছেরা পলাতক।

৫০।

মাঠের ঘাস
জোছনাকুমারী রাতে
কুয়াশাক্রান্ত।

__________________


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন