আসমান দেখো - শাইয়িন কবির
সমুদ্র থেকে ভেসে আসছে বৃষ্টিময় মেঘ,
মুগ্ধর চুল এলোমেলো হয়, ঠোঁট থেকে মেঘের ধোঁয়া কোন বাতাসে কতদুর ভেসে যায় কে জানে...
তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না মুগ্ধ।
জনবহুল পৃথিবীর জনাকীর্ন অলিগলি দিয়ে পকেটে দুহাত ঢুকিয়ে মুগ্ধ ভেসে চলে।
দুর থেকে ভেসে আসে নাবিকের গলা, আসমান দেখো, আসমান!
বহুকালের পুরোনো আর স্যাঁতস্যাতে বাতাসে আরেক চিমটি ধোঁয়া ছাড়ে সে, হাতে রাখা তামাকের শলাকা ফিল্টার ছাড়িয়ে এখন ফুসফুসের প্রতিটি অ্যালভিওলাই অধিকার করেছে,
সে আকাশের দিকে তাকায় একবার, রঙহীন কালো আকাশ, যেন এক অন্ধকারের টিস্যু সমস্ত রঙটা শুষে নিয়ে আকাশের ছোবড়াটা ছুড়ে ফেলে রেখেছে.....
সে কি একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলো না, কন্ঠনালী অবরোধ করে এক গলা রক্ত উঠে এসে আছড়ে পড়ে কর্দমাক্ত পৃথিবীর জৈবিক বালুকণায়।
হঠাৎই....
তামাকের নীলচে ধোঁয়ার সাথে যোগ হয় আরেকটা বড় ধোঁয়ার স্রোত, পাষুটে বর্ণী ধোঁয়া!
কানের কাছে একটা তাপীয় আবহ অনুভব করে মুগ্ধ,,,
আহ!
কেমন এক আরামদায়ক যন্ত্রনা!
মুগ্ধের মা দরজা ধাক্কাচ্ছে ক্রমাগত, বাবা! দরজাটা খোল.....
অবশ্য সেদিকে খেয়াল নেই মুগ্ধের...
মুগ্ধ ভেসে চলে নিজের মত,
নাবিকের কণ্ঠস্বর ভাসছে সমুদ্রে, আসমান দেখো! আসমান!
মুগ্ধ আবার আকাশে তাকায়,
এবার সে আকাশে দেখতে পায় নানান রঙ্গের ছড়াছড়ি.....
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন