কল্পচরিতাসু
আমার সত্য নামখানা দিব না।
কারন,পৃথিবীর ইতিহাসে আমার নামটি লইয়া প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিবাদের কোনরূপ আশঙ্কা নাই।যে তাম্রশাসনে আমার নাম খোদাই করা আছে সেটা মানুষের হৃদয়পট। কোনকালে সে পট এবং সে নাম বিলুপ্ত হইবে তাহা আমি মনে করিতে পারি না। কিন্তু যে অমৃতলোকে তাহা অক্ষয় হইয়া রহিল সেখানে ঐতিহাসিকের আনাগোনা নাই।
কিন্তুু, আমার তো একটা নাম হওয়া চাই।
আচ্ছা,আমার নাম হইল শিশির। কেননা শিশিরে কান্নাহাসি একেবারে এক হইয়া আছে।
অতএব,আমি সম্পুর্ন কাল্পনিক একখানি চরিত্র।
এবং আমার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নাই।
নাহ!!!
তাহা বলিলে আবার ভুল হইবে।
কেননা আমার অস্তিত্ব রহিয়াছে,অবশ্যই রহিয়াছে; এবং তাহা মানসপটে।
আমি বসত করি মানুষের কল্পনায়,চিন্তা চেতনায়, ভাবনায়।
সুদূর অতীতে দিগম্বর গুহাবাসীর চাঁদ রাজকন্যের গল্পে আমি ছিলাম।ছিলাম চর্যাপদ কবি কাহ্নপা'র কল্পনায়-শবরীপা'র শবরীবালী সহজসুন্দরীতে, কিম্বা কালীদাসের পদাবলীতে।শরত-বিভুতি-বঙ্কিম রবী বা নজরুল যাহাই বলুন,উহাদের মস্তিষ্ক ঘাটিলেও... সেই আমি।
ঠাঁই হইয়াছে হুমায়ুন-জাফরদের লেখায়ও।কখনো জহির- আনিসুলদদের চিন্তাধারায় উড়ন্ত চুলের কিশোরীরূপে,কখনো নির্মলেন্দু - সুনীলের নীরা-বরুনারূপে কিম্বা জীবনের কল্পনায় বনলতারূপে,আবার কখনোবা স্বর্ণলতিকা - হাসনুহানারুপে উঠিয়া আসিয়াছে আমার বর্ণনা; যুগে যুগে।
সুদূর অতীতে আসিয়াছে,বর্তমান তো বর্তমানই,আর ইহাও আমি জানি ভবিষ্যতও ইহা হইতে বঞ্চিত হইবে না।
সুতরাং,,,,
এক কথাতেই বলা যায়, প্রতিবিম্ব বা প্রতিধ্বনি যাহাই বলুন,তাহা ভিন্ন আমি আর কিছুই নই।
কিন্তু তাহাতে কি??????
আমি শিশির।
ক্ষনজীবিনী ঊষা বিদায়ের অশ্রুবিন্দুটি হইলেও আমাতেই কান্নাহাসি একেবারে এক হইয়া আছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন