অস্তিত্বহীন সমাচার - জয়ন্ত

ওরা  সবাই বেরিয়ে পড়েছে একে একে আমায় ছেড়ে।
ঘরে আমি একা।
জানালা বন্ধ করে দিয়েছি,
আকাশ দেখতে ইচ্ছে করছে না যে।
একটা সিগারেটও নেই ঘরে।
স্বাধীনতা কি এতটাই ভয়ংকর?
একি মুক্তিদান নাকি পরিহার?
একি স্বাতন্ত্র্য নাকি একাকীত্ব?

ইদানিং কেন জানি শব্দ মোটে ভালো লাগছে না।
উফ কি ধারাল!
ক্ষত বিক্ষত হচ্ছি মানুষের হাসি শুনে।
সে সাথে আকাশে মেঘ করেছে,
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঘন ঘন,
হয়তো বৃষ্টি নামবে।
একি সঙ্গে ঝড়।
প্রচণ্ড ঝড়।
একে একে হারিয়ে যাবে সমুদ্র বক্ষে কূলে বাঁধা নৌকারা।
অথচ ওরাই এতোটাকাল সঙ্গ দিয়েছে সমুদ্রকে আলোকবর্তিকা হাতে।

সে যাক।
ঝড়কে সমুদ্র ভয় করে না।
আমি ভয় করি না একাকীত্বকে।
ভয় করি না আমি প্রণয়িনীর শেষ প্রশ্নকে,
তার কান্না,
তার বিরহ,
পিছুটান-
কোনও কিছুতেই আমার আর ভয় নেই।
আমি ভয় করি না মাকড়শার জালে আটকে পড়া নিশ্চিত মৃত্যুকেও।
কান্না পায় কেবল কবিতার প্রশংসা শুনে।
কবিতার ভাষা দৃশ্যমান,
আবেগ অবোধ্য।
সিগারেটের লালচে আগুনে সেগুলোকে যদি পোড়ানো যেত!
যদি সূর্যের আলো না এসে পড়তো জানালা চুইয়ে!
যদি আমার ডান হাত হয়ে পড়তো অবশ!
যদি কিনা আমার কবিতার খাতা হত পরিত্যাক্ত!
বেশ হত।
হ্যাঁ,
তবেই বেশ হত।
আমি অস্তিত্বহীন হয়েই নাহয় শেষবারের মতন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নামতাম।
























মন্তব্যসমূহ