বিলাসিনী - জয়ন্ত




মেয়েটি কলঙ্ক ভালবাসে।
আর ছেলেটি ভালবাসে দগ্ধতাকে।

মাঝে মাঝে মেয়েটি কবিতার খাতা থেকে কালি খুঁচিয়ে তুলে মুখে মেখে নেয়,
আবার কখনো বৈশাখের কালো মেঘ টেনে এনে পর্দা দেয় মুখে,
পরম তৃপ্তি তার তাতে।
আর ছেলেটি বিষাক্ততায় পুড়াতে চায় ঠোঁট।

মেয়েটি বৃষ্টি ভালবাসে।
ছেলেটি ঝড়,
কালবৈশাখীর ঝড়।
রবিন্দ্রের সুর চুরি করে যুদ্ধ করে পবন ধ্বনির সাথে।
মেয়েটি ভালবাসে ঘামের গন্ধ,
আর ছেলেটি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে চুলের উড়ানি।

গোলাপের সাথে মেয়েটির বড্ড কাটাকাটি।
তাই ছেলেটি ভয় পায় গোলাপের কাঁটাকে।
সে বলে-আরও তো কত ফুল আছে!
মেয়েটি ভুল বোঝে।
ভাবে- গোলাপের  আঘাতে কেতকীর মূর্ছা যাবার সময় এল বুঝি!

মেয়েটির ভোরবেলা খুব পছন্দের,
আর ছেলেটির গোধূলি।
কত পাখি আকাশে!
ওরা কি সবাই ফিরতে পারে বাসায়?
-প্রশ্ন করে মেয়েটি।
উত্তর না পেয়ে মেয়েটি নিচু গলায় আবারো বলে-
নাকি আমাদের মত মৃত্যু প্রতিক্ষা করে ওরাও!
এবার একরাশ দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে উত্তরের ছদ্মবেশে।

নিরাকার নীরবতা ভালবাসে মেয়েটি।
আর ছেলেটি ভালবাসে কাল্পনিক নিঃশ্বাসের শব্দকে।
ওরা ভুলে যায় নীরবতার মাঝেই শব্দ বেঁচে থাকে।
আচ্ছা নীরবতার রঙ কি নীল?
কি জানি!

কিন্তু নীল আকাশ ঠিকই চেয়ে দেখে ওদের।
ক্ষণিক পরে ওঠে মূর্ছনা।
বাতাসের বেগ বৃদ্ধি পায়,
মেঘে মেঘে লাগে সংঘর্ষ,
এই বুঝি ঝড়!
মেয়েটি লাফিয়ে ওঠে।
কারণ ছেলেটি ঝড় ভালবাসে,
আর মেয়েটি ছেলেটিকে।
















মন্তব্যসমূহ