আর কোন বিরহের গান নেই - শাইয়িন কবির
নদীর পাড়ে একটা কুঁড়েঘর। একটা শুকাতে দেয়া শাড়ি হাওয়াতে উড়ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন,
বৃষ্টি নামবে নামবে করেও নামছে না, যেন দম আটকে থাকা কান্নার মতন ভেতরটা পুড়িয়ে চলছে।
নদীর পাড়ে কাশফুলের মেলা। হাওয়ার দোলায় উড়তে থাকা কাশফুলগুলোর মাঝ দিয়ে
হেটে যাচ্ছে একটি নারীমূর্তি। বিষন্ন তার চলন। কত কালের প্রিয় বিয়োগের বিরহ যেন তার
চোখে মুখে। হাটতে হাটতে সে নদীর কিনারে গিয়ে পৌছায়। নদী আকাশ বাতাসের স্তব্ধ বিশালতায়
নিজেকে আরো বেশি ক্ষুদ্র মনে হতে থাকে তার।
হঠাত রিংটোন বাজার আওয়াজ পাওয়া যায়। ব্লাউজের ভেতর গুজে রাখা স্মার্ট ফোনটি
বের করে আনে সে। এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে তার বিষণ্ণ ঠোঁটের কোণায়।
- - হ্যালো!
- - মন কি বেশি খারাপ?
- -
আপনে বুঝেন কেমনে বলেন তো?
- -
সইত্য বলবো না মিথ্যা বলবো?
- -
তওবা! মিথ্যা কইবেন কোন দুঃখে?
- -
না ধরো, মিথ্যা কইলে কইতাম আত্মার টান টুন কিছু।
- -
যান কথা বইলেন না তো…এইটা মিথ্যা? আর সইত্য?
- -
তোমার ফোনের লোকেশনটা অন করা, এই অবেলায় আমার বৌ ক্যান নদীর
পাড়ে আইতে পারে...তাও আবার ফোন নিয়া, তা জানতে যতটুকু টান দরকার ততটুকু কিন্তু আমার আছে।
- -
( এবার হাসি শোনা যাবে, রিনরিনে একটা মিষ্টি হাসি)
- -
শোনো, ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্সটা চেক কইরো তো। আব্বায় ইলিশ
মাছ খাইতে চাইছিলো। দুইটা বড় সাইজের ইলিশ কিনবা… ঠিকাছে?
এভাবেই হাসি ভালবাসার শব্দ শুন্যে মিলায়, বহুদুর… বহুদূরের বাতাসের শব্দে
বিরহের তাল কেটে যায়, বিরহের গানগুলোর প্রয়োজন অনর্থক আর কোথায়?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন