পিঁপড়েকাটা - আহমেদ সোহাগ

খালাম্মার বাসায় যখনই যাই তিনি আমাকে আতিথেয়তা হিসেবে এক কাপ চা দিবেনই। আমি নাস্তা হিসেবে অন্যান্য খাবার-দাবার খুব একটা পছন্দ করিনা তা তিনি জানেনই। শুধুই যে জানেন তা কিন্তু না,তিনি পুলকিতও বটে।
যথারীতি আজও খালাম্মার বাসায় এসে বসে আছি। এই গরমে এসি থাকা সত্ত্বেও তিনি এসি অফ করে রেখেছেন। লোডশেডিংয়ের কথা ভেবে এমন সচেতন
ব্যক্তি যে দেশে আছেন এইদিক বিবেচনায় খালাম্মাকে জাতীয় পর্যায়ের পুরষ্কার দেয়া যেতেই পারে।
যাহোক,মাথার উপর একটা ফ্যান তো ঘুরছে এইটা ভেবেই আপাতত প্রশান্তিটুকু নিই। বসে বসে বায়ান্ন ইঞ্চি মনিটরে বিটিভি দেখতেছি। বাসাতে সারাদিন খালাম্মাই থাকেন। মাঝে মাঝে খালুজানের দলীয় নেতাকর্মী আসেন বলেই শোপিস হিসেবে এই বড় পর্দার টিভিটা। যাহোক,এত বড় পর্দায় টিভি দেখতেছি বিষয়টা ফেসবুকে গিয়ে স্ট্যাটাস দেয়াই যায়। যেমন ভাবা তেমনই কাজ করা মুগ্ধের ইদানিংকালের স্বভাব হয়ে গেছে। এই কৃতিত্বটা নেতা মানুষ খালুজানকেই দিতে হবে।
বিটিভি দেখতে দেখতে প্রায় ঘুম এসে যায় ভাব এমন মূহূর্তেই খালাম্মা পানি এবং গরম লাল চা এনেছেন। গলাটা পানিতে ভিজিয়ে নিয়েই চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। ভঙ্গিটা এমন যে বিটিভির ভেতরে এনালগ টাইপ টকশোতে আমিই আমন্ত্রিত অতিথি!
চুমুক দিতেই বাস্তবে ফিরে এলাম। এবার মুখচোখ কাচুমাচু করে খালাম্মাকে বলতে বাধ্যই হলাম, "খালাম্মা, আমি ডায়াবেটিস রোগী নাহ।"

মন্তব্যসমূহ