মুগ্ধের পতিত যাত্রা - শাইয়িন কবির
গলিটা ছিল অন্ধকার...
আর প্যাঁচানো সিঁড়িটাও, আলো না জ্বেলে পরের পদক্ষেপ অসম্ভব....
অন্ধকার জগতটা কি এমনটাই হয়?
কে জানে!
তবে সেসব নিয়ে মাথা ঘামায় না মুগ্ধ....
বাইরে থেকে টাকা পরিশোধ করে একটা বদ্ধ ঘরে গিয়ে বসলো মুগ্ধ। ঘরটা অন্ধকার, মান্ধাতা আমলের দশ ওয়াটের একটা বাতি জ্বলছে বটে, তবে তাতে অন্ধকারটাই কিঞ্চিত তরলিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে ন্। দরজা জালনা ভেদ করে যে এক চিমটি সূর্যের আলোও প্রবেশ করবে তার কোন ব্যবস্থা নেই। অবশ্য আলো প্রবেশে অন্ধকারটাই বা কই থাকবে? আলোরও প্রবেশে দ্বিধা এইখানে....
নইলে নিষিদ্ধ জগত কেন?
রুম নম্বর তিন,
একটা সিগ্রেট জ্বাললো মুগ্ধ...
এখনই চলে আসবে সে,
আচ্ছা কি দিয়ে শুরু করবে?
আপনি না তুমি?
নাকি অন্য কিছু?
অন্যমনস্ক সিগ্রেটের তামাক পুড়ছে, এক চিলতে আগুন ভাবনা বাড়াচ্ছে, তালে তালে ড্রাম বাজাচ্ছে হৃদপেশি, একরাশ ধোঁয়ায় ডুবে যেতে যেতেই মুগ্ধ ঘরের দরজা খোলার আওয়াজ পেল...
সে এসেছে,
বয়স চব্বিশ পচিশ হবে।
সুশ্রী চেহারা,
উর্বর যৌবন যেন ভরা কলসির মত টলমল করছে গোটা শরীরে।
উর্বশী মেনকার সাথে এর তুলনা চলে না বটে, কিন্তু তার পান খাওয়া লাল ঠোঁটের মহীমা উর্বশীর দম্ভকে অনায়েসেই হার মানাতে পারে...
"কি করে রেখেছো ঘরটা? ফেল ওটা.... "
চটক ভাঙলো মুগ্ধের... তাড়াতাড়ি হাত থেকে আধপোঁড়া সিগ্রেটটা ফেলে মুচকি হাসলো।
"কেমন আছো?"
একগাল হেসে সে শুধালো, হাসিটা মুগ্ধের একেবারে ভেতরে গিয়ে ঝংকার তুলল। কেন? এই রাজ্যে তো অনুভূতির কোন ঠাঁই নেই। এটা তো সে জানে,তবুও? সামলে নিয়ে কোনমতে বললো,
"হ্যা আছি, তুমি?"
"এইতো চলে যেমন, ঈদের ছুটি হয়েছে, বাড়ি যাবো আজ।"
"কবে আসবে আবার?"
আবার সেই রিনরিনে গলার হাসি,
মুগ্ধের কি হয়ে গেল সে জানে না,সে অপলক! যেন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কোন মায়াজালে...
মুহুর্তের মধ্যেই সে স্থান ভুলে গেল, কাল ভুলে গেল, ভুলে গেল আকাশ মাটির ফারাক, আলোর অবিনাশী বেগ, অনন্ত মহাকাশগ্রন্থি, চাঁদ সূর্যের রুপকথা!
তার কাছে এখন কেবল সত্য দুজনের ওইটুকু ফারাক,
ফারাকটা বুজে আসে ধীরে ধীরে....
উড়ে আসা ভ্রমরের কালো চোখের তারায় আর সে সিগ্রেটের ছাই সে দেখতে পেল না,
কেবল একটা তীব্র আকর্ষন তাকে টেনে নিয়ে গেল গভীরের দিকে....
গভীরে....
আরো গভীরে...
একেবারে অতলে.....
#মুগ্ধ
বাইরে থেকে টাকা পরিশোধ করে একটা বদ্ধ ঘরে গিয়ে বসলো মুগ্ধ। ঘরটা অন্ধকার, মান্ধাতা আমলের দশ ওয়াটের একটা বাতি জ্বলছে বটে, তবে তাতে অন্ধকারটাই কিঞ্চিত তরলিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে ন্। দরজা জালনা ভেদ করে যে এক চিমটি সূর্যের আলোও প্রবেশ করবে তার কোন ব্যবস্থা নেই। অবশ্য আলো প্রবেশে অন্ধকারটাই বা কই থাকবে? আলোরও প্রবেশে দ্বিধা এইখানে....
নইলে নিষিদ্ধ জগত কেন?
রুম নম্বর তিন,
একটা সিগ্রেট জ্বাললো মুগ্ধ...
এখনই চলে আসবে সে,
আচ্ছা কি দিয়ে শুরু করবে?
আপনি না তুমি?
নাকি অন্য কিছু?
অন্যমনস্ক সিগ্রেটের তামাক পুড়ছে, এক চিলতে আগুন ভাবনা বাড়াচ্ছে, তালে তালে ড্রাম বাজাচ্ছে হৃদপেশি, একরাশ ধোঁয়ায় ডুবে যেতে যেতেই মুগ্ধ ঘরের দরজা খোলার আওয়াজ পেল...
সে এসেছে,
বয়স চব্বিশ পচিশ হবে।
সুশ্রী চেহারা,
উর্বর যৌবন যেন ভরা কলসির মত টলমল করছে গোটা শরীরে।
উর্বশী মেনকার সাথে এর তুলনা চলে না বটে, কিন্তু তার পান খাওয়া লাল ঠোঁটের মহীমা উর্বশীর দম্ভকে অনায়েসেই হার মানাতে পারে...
"কি করে রেখেছো ঘরটা? ফেল ওটা.... "
চটক ভাঙলো মুগ্ধের... তাড়াতাড়ি হাত থেকে আধপোঁড়া সিগ্রেটটা ফেলে মুচকি হাসলো।
"কেমন আছো?"
একগাল হেসে সে শুধালো, হাসিটা মুগ্ধের একেবারে ভেতরে গিয়ে ঝংকার তুলল। কেন? এই রাজ্যে তো অনুভূতির কোন ঠাঁই নেই। এটা তো সে জানে,তবুও? সামলে নিয়ে কোনমতে বললো,
"হ্যা আছি, তুমি?"
"এইতো চলে যেমন, ঈদের ছুটি হয়েছে, বাড়ি যাবো আজ।"
"কবে আসবে আবার?"
আবার সেই রিনরিনে গলার হাসি,
মুগ্ধের কি হয়ে গেল সে জানে না,সে অপলক! যেন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কোন মায়াজালে...
মুহুর্তের মধ্যেই সে স্থান ভুলে গেল, কাল ভুলে গেল, ভুলে গেল আকাশ মাটির ফারাক, আলোর অবিনাশী বেগ, অনন্ত মহাকাশগ্রন্থি, চাঁদ সূর্যের রুপকথা!
তার কাছে এখন কেবল সত্য দুজনের ওইটুকু ফারাক,
ফারাকটা বুজে আসে ধীরে ধীরে....
উড়ে আসা ভ্রমরের কালো চোখের তারায় আর সে সিগ্রেটের ছাই সে দেখতে পেল না,
কেবল একটা তীব্র আকর্ষন তাকে টেনে নিয়ে গেল গভীরের দিকে....
গভীরে....
আরো গভীরে...
একেবারে অতলে.....
#মুগ্ধ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন