দ্বিতীয় হস্তের উপাখ্যান - শাইয়িন কবির

চোরাবাজার কি একটা অদ্ভুত যায়গা না?
একরাশ ধোঁয়ার রিং অন্ধকারে মিশিয়ে দিতে দিতে ভাবে মুগ্ধ....

সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ কি আদৌ পাওয়া সম্ভব? 
কে জানে?
তবে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য চোরাবাজার এর এই দ্বিতীয় হস্তের জিনিষগুলোর জুড়ি মেলা ভার, এই আজকেই একটা জমিদারী আমলের পেতলের তৈরী নল ওয়ালা বড় হুকো দেখে এসেছে সে, বেশ স্বল্প দামেই, হাতে টাকা এলেই কিনে নেবে....
এক মহিয়সী কোন এককালে তাকে বলেছিলেন কেনাকাটায় নাকি অসম্ভব রকমের সুখ, হতাশা কাটানোর মহৌষধ হচ্ছে টাকা ভাঙ্গো আর জিনিস কেনো!
কথাটা যে একেবারেও মিথ্যে নয় তা ইতোমধ্যেই জেনে গেছে মুগ্ধ।
ইদানীং টাকা হলে প্রায়ই চোরাবাজার  এ যায় সে। এইতো সেদিনই একখানা জাপানী পর্দা,চীনা কলমদান,কাঁচের বাতিদানী, একখানা আফ্রিকান কাঠের এ্যাশট্রে আরো কি একগাদা হাবিজাবি জিনিস কিনে এনে ঘর ভরে রেখেছে সে। দোকানদারও বোকা কাস্টমার পেয়ে দাও মারতে ছাড়ে না!
তার ঘরময় স্তুপে স্তুপে ছড়ানো যে বইগুলো রয়েছে তার প্রায় সবই চোরা বাজারের আশীর্বাদ! একটা বইয়ের দামে দশটা বই, মন্দ কই!
নামেই নাহয় সেকেন্ড হ্যান্ড!

সেকেন্ড হ্যান্ড!
দ্বিতীয় হস্ত!
শব্দটা মনে মনে আওড়াতেই চমকে উঠলো মুগ্ধ!
অন্ধকার যেন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়, ধোঁয়ায় জমাট বাধা অন্ধকার হঠাৎই একটা দেয়াল তার সামনে গড়ে দেয়, আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মুগ্ধ!
কুন্ডলী পাঁকানো ধোঁয়ার রিং তাকে টেনে নিয়ে যায় কোন এক ঝুম বর্ষায়,যখন হয়ত ভুল করেই কারো হাত ধরে বসেছিল সে,
চোরাবাজারে বিকিয়ে দেয়া দ্বিতীয় হস্ত! 
এই বইগুলো, এ্যাশট্রে, কলমদান আর জাপানী পর্দাটার মতই তার মধ্যে সুখ খুজেছিল।
 সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসে কতটুকু সুখ দিতে পারে তা হয়ত আপেক্ষিকতার সূত্র মেনে চলে, তবে সেকেন্ড হ্যান্ড মানুষগুলো ধ্রুবকের মতই বড্ড ভোগায়.....

হাতে ধরা জ্বলন্ত আগুনের ফুলকির ঔজ্জ্বল্য হঠাৎই তীব্র হয়ে ওঠে, রাশি রাশি অন্ধকার তাকে জাপটে ধরে গালাগাল দিতে থাকে; দ্বিতীয় হস্তের জাপানী পর্দা, কলমদান, কাঁচের বাতিদানী আর ঘরময় ছড়ানো ছিটানো বইয়ের স্তুপের বিভৎস অট্টহাসিতে কান ফেটে যায় মুগ্ধের...
বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথাটা ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে ধীরে ধীরে।
ফুসফুস পুড়ছে, তামাক জ্বলছে!
আচ্ছা!
সেকেন্ড হ্যান্ড একটা ফুসফুস পাওয়া যাবে?

[Golzar Shohagh ভাইয়ের #মুগ্ধ সিরিজ অনুসরনে এবং তাঁর অনুরোধেই এই দ্বিতীয় হস্তের উপাখ্যান লিখা]

পুনশ্চঃ
শুভ জন্মদিন Nahid Shahriar!
লিখাটা তোকে উৎসর্গ করলাম.....
বার্থডে গিফট!
:)

মন্তব্যসমূহ